৯৯ মিনিটের পেনাল্টিতে অবনমন অঞ্চলের দলকে হারাল রিয়াল

‘পেনালতি আ ফাভর দেল রেয়াল মাদ্রিদ’ স্প্যানিশ ভাষায় এই শব্দগুচ্ছ ফুটবল মিম সংস্কৃতিতে এখন খুব প্রচলিত। সেই শব্দগুচ্ছ আজ আরও একবার শোনা গেল। সেই শব্দগুচ্ছই আরও একবার ত্রাতা হয়ে এল রিয়াল মাদ্রিদের। অবনমন অঞ্চলের আশেপাশে ঘুরপাক খেতে থাকা রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ৯৮ মিনিটে পাওয়া এই পেনাল্টিই যে ২-১ গোলের জয় এনে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে!

ম্যাচের শুরুতেই রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ চলে আসে। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন জুড বেলিংহ্যাম। তবে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে ১৫তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ ফিনিশে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির আগে আর্দা গুলের শট ঠেকান রায়োর গোলকিপার অগুস্তো বাতাইয়া, ফিরতি বলে ভিনিসিয়ুসও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরায় রায়ো। আলভারো গার্সিয়ার হেড-ডাউন থেকে জর্জে দে ফ্রুতোস কাছ থেকে জালে বল জড়ান। এরপর ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছিল অতিথিরা—আন্দ্রেই রাটিউ একা পেয়েও থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।

এমবাপ্পের কাছে সুযোগ আসে একটু পর। বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে গোলরক্ষক বাতাইয়া এমবাপ্পেকে ঠেকাতে চাইলেও পারেননি। ফাঁকা জালে রিয়ালের ফরাসি ফরোয়ার্ডের করা শট গিয়ে আটকে যায় ক্রসবারে। একটু পর দানি সেবায়োসের বাড়ানো বলে অরলিয়ে চুয়ামেনির হেডারও গিয়ে প্রতিহত হয় বারপোস্টে। তখন মনে হচ্ছিল রিয়াল বুঝি আরও একবার রায়োর গেরোতে আটকে যাচ্ছে। শেষ ৫ ম্যাচের ১টিতে জয় ছিল তাদের বিপক্ষে, এই ম্যাচটাও ড্র হলে শেষ ৬ মুখোমুখি লড়াইয়ে ৫ ড্র হতো রিয়াল আর রায়োর।

তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় পাথে সিস লাল কার্ড দেখলে। ১০ জনের দলে পরিণত হয় অতিথিরা। এরপরও অবশ্য রিয়ালকে আটকে রাখার কাজটা ভালোভাবেই সামলাচ্ছিল রায়ো।

শেষ মুহূর্তে গিয়ে পেনাল্টি পায় রিয়াল। বল ক্লিয়ার করার পর অতিথি ডিফেন্ডারের পা গিয়ে ছোঁয় ব্রাহিম দিয়াজের মুখ। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

স্পট কিক থেকে গোল করে লা লিগার শীর্ষ গোলদাতা এমবাপ্পে নিশ্চিত করেন জয়। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে পেপ চাভারিয়াও মাঠ ছাড়লে নয়জনের দলে পরিণত হয় রায়ো, যারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও পয়েন্ট বাঁচাতে পারেনি।

এই জয়ে শিরোপা দৌড়ে বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ আবারও জোরালো বার্তা দিল। চূড়ায় থাকা বার্সার পয়েন্ট ২২ ম্যাচে ৫৫ আর রিয়াল সমান ম্যাচে পেয়েছে ৫৪ পয়েন্ট।

-সাইমুন