গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শিশু ওসমানের সাহসী বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শিশুর বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। এ বক্তব্য সারা দেশে প্রশংসিত হয়েছে।

জানা গেছে, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে ওই স্কুলের সপ্তম শেণির শিক্ষার্থী শমীম ওসমান।

শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বলে, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি গণহত্যার মধ্য দিয়ে লেখা এক জাগরণের নাম। যখন অন্যায় মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, যখন মানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল অসাধারণ সাহসে। রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক, কৃষক। শুধু রক্ত নয়, বুকে ছিল অদম্য প্রত্যয় আর চোখে ছিল মুক্তির স্বপ্ন।

তার বক্তব্যে ছিল, জুলাইয়ের সেই দিনগুলোতে রাজপথ কেঁপে উঠেছিল মানুষের স্লোগানে। বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের গর্জনে। গুলির মুখে জনতা মনে করছিল মৃত্যু আসতে পারে, কিন্তু মাথা নত করা যাবে না।

বিপ্লবের শিক্ষার বিষয়ে শামীম ওসমান তুলে ধরে, শহীদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে অধিকার কখনো মিথ্যায় মিশে যায় না, তা ছিনিয়ে নিতে হয় সংগ্রামের মাধ্যমে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে ঘরে বসে না থেকে, নিরবতা ভাঙতে, অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে না বলতে।

আরও ছিল- জুলাই নিছক ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি ছিল আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াই। মানুষের দুর্বল কণ্ঠস্বরে আওয়াজ তুলে অধিকারের কথা বলার সংগ্রাম। আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলি, মত প্রকাশ করি, তখন ভুলে গেলে চলবে না এই স্বাধীনতার পেছনে আছে অগণিত তাজা প্রাণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের কাছে শুধু স্মৃতি নয়। এটি এক চেতনা। যা বারবার মনে করিয়ে দেয়। দেশ মানে মাটি নয়, দেশ মানে মানুষ।

তার বক্তব্যে আহ্বান জানানো হয়, আসুন আমরা সেই চেতনার প্রতি বিশ্বাসঘাতক না হই,  শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হোক। ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আমাদের শপথ হোক, অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সংগ্রামই হবে আমাদের পথ।

এ বিষয়ে টৈটং উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা যাতে জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করতে পারে সে উদ্দেশে আমরা শিক্ষার্থীদের চারভাগে ভাগ করে হাউজ গঠন করি এবং চার হাউজের নাম রাখা হয় জুলাইয়ের সম্মুখসারির শহীদ যোদ্ধাদের। তারা হলেন- আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম এবং শরিফ ওসমান হাদি।

তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্যের বিষয় নির্ধারিত ছিল। আর এতে শামীম ওসমান প্রথম স্থান অধিকার করে। তার বক্তব্যে আমরা বিমোহিত।

শামীম ওসমান পশ্চিম টৈটং মিতান্তঘোনা এলাকার ওসমান গনির ছেলে।

-সাইমুন