বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে ও দেখতে চায় কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোবে, যাতে বাংলাদেশ আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার কাছে দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার মতো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশ আমাদের অনেক দিয়েছে। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদ জীবন দিয়েছেন দেশকে স্বাধীন করার জন্য। আবার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বহু মানুষ সেই স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা। তিনি বলেন, আজ চাইলে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলা যেত, তাতে হাততালি পাওয়া যেত, কিন্তু এতে দেশের কোনো উপকার হতো না।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মানুষ তার ওপরই ভরসা করে, যার অভিজ্ঞতা আছে এবং যাকে বিশ্বাস করা যায় যে বিপদের সময় মানুষকে ফেলে রেখে চলে যায় না। এসব গুণাবলি বিএনপির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে, তাদের উদ্দেশে জনগণকে সতর্ক করে তিনি বলেন, দেখামাত্র তাদের ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত করবেন। গত ১৬ বছর ধরে তাদের দেখা যায়নি, তারা তাদের সাথেই ছিল যারা ৫ তারিখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তাঁত ও লুঙ্গির কথা বললে স্বাভাবিকভাবেই সিরাজগঞ্জ ও পাবনার নাম সামনে আসে। এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিরাজগঞ্জের পাঁচটি ও পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট চান তারেক রহমান।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
-এমইউএম










