কিউবার তেল সরবরাহকারী দেশের ওপর শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক নির্বাহী আদেশে সই করে তিনি কিউবাকে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করা হবে।

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার অধীনে জারি করা এই আদেশে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম বা শুল্কের হার উল্লেখ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে মেক্সিকো ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো বাণিজ্যিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হোয়াইট হাউসের ফ্যাক্ট শিটে বলা হয়েছে, কিউবা সরকার রাশিয়া, ইরান, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ‘শত্রু পক্ষ’গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর কিউবার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ও সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হাভানা সতর্ক করেছে, আদেশের কারণে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে। খবর রয়টার্সের।

কিউবা সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন পদক্ষেপ আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্বাসরুদ্ধ করতে চাইছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘নৃশংস আগ্রাসন’ ও ‘আন্তর্জাতিক দস্যুপনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুতে এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর থেকে ট্রাম্প কিউবার ওপর আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। এক সময় ভেনেজুয়েলা কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল, তবে মাদুরোর পতনের পর থেকে দেশটিতে তেল ও অর্থ প্রেরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনো তেল বা অর্থ কিউবায় যাবে না, একদম শূন্য। তিনি জানিয়েছেন, কিউবা খুব শিগগির ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর মেক্সিকো কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে ওয়াশিংটনের শুল্কের হুমকি মেক্সিকোকে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনার পথে ঠেলছে।

-আফরিনা সুলতানা