সঠিকভাবে যাকাত বণ্টন হলে কেউ অমর্যাদাকর পেশা বেছে নিত না: ধর্ম উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
যাকাত কোনো দান-দক্ষিণা নয়, বরং এটি গরিবের হক। দেশে যদি সঠিকভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত আদায় করা হতো, তবে কাউকে অভাবের তাড়নায় যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হতো না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট’ (সিজেডএম) আয়োজিত ১৪তম যাকাত ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “ইসলামের ইতিহাসে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো। কিন্তু ব্রিটিশ ও মুঘল আমল থেকে এটি ব্যক্তি পর্যায়ে চলে আসায় এর গুরুত্ব ও কার্যকারিতা কমে গেছে। বর্তমানে যাকাত ব্যবস্থাপনায় সিজেডএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দেশে অনেক ধনী ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে যাকাত দেন না, যা ঈমানি দুর্বলতার লক্ষণ। সামাজিক বৈষম্য দূর করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান পৃথিবী এক গভীর দার্শনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গন্তব্য ও পথ-উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তিনি বলেন, “যাকাত কেবল একটি আর্থিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। যাকাত দেওয়ার পর সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা তদারকি করাও দাতার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”
ড. জিল্লুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের এই মডেলটি কেবল দেশের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ ব্যবহারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব।
যাকাত ফেয়ারের আলোচনায় বক্তারা একমত হন যে, যাকাতকে যদি একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনা যায়, তবে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, আলেম এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
লামিয়া আক্তার