নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। তবে মেলার শুরুর দিনগুলোতেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাড়কাঁপানো শীত। গতকাল মেলার চতুর্থ দিনে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে মেলা প্রাঙ্গণ প্রায় ক্রেতা-দর্শনার্থীশূন্য। কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় মেলায় আসা দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এবার মেলার চতুর্থ দিনে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত মেলার শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও এবার শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। বিক্রি না থাকায় অলস সময় পার করছেন স্টল মালিক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলার শুরুতেই এমন স্থবিরতায় লোকসানের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। হোমট্যাক্সের নাদিয়া খানম জানান, “তীব্র শীতের কারণে বেচাকেনা একেবারেই কম। দিনের বেলা কিছু মানুষ এলেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই মেলা প্রাঙ্গণ জনশূন্য হয়ে পড়ছে।”
একই সুর শোনা গেল ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যারের সেলিম আহমেদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে স্টল বরাদ্দ নিয়েছি। কিন্তু শীতের কারণে মেলায় মানুষই আসছে না। বিক্রি না বাড়লে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।” অন্যদিকে দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি লিমিটেডের পরিচালক ওসমান গনি জানান, এবার মেলা শুরু হতেই দেরি হয়েছে, তার ওপর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের ৩০তম আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩২৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্যাভিলিয়নগুলো সাজানো হয়েছে আধুনিক সব পণ্যের পসরা নিয়ে, কিন্তু ক্রেতার অভাবে সবই এখন ম্লান।
শীতের কারণে শুরুতে মন্দা থাকলেও পরিস্থিতি উন্নতির আশা করছেন আয়োজকরা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, “শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দর্শনার্থী কিছুটা কম থাকলেও আমরা আশাবাদী। সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বেচাকেনা জমে উঠবে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।”
শীতের প্রকোপ কমলে এবং ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে ব্যবসায়ীদের এই হতাশা কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-এম. এইচ. মামুন










