চুলের রঙ পরিবর্তন করা অনেকের জন্য একটি সাধারণ সৌন্দর্যচর্চা; কিন্তু রাসায়নিক হেয়ার কালার ব্যবহার করলে চুল দুর্বল, শুকনো বা ভেঙে পড়ার সমস্যা হতে পারে। তবে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে চুল রঙ করা এক ধরনের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এর মধ্যে বিটরুট অন্যতম। বিটরুটে উপস্থিত অ্যান্থোসায়ানিন নামক প্রাকৃতিক পিগমেন্ট চুলকে সুন্দর লাল বা গাঢ় গোলাপি আভা দিতে সাহায্য করে।
বিটরুট দিয়ে চুল রঙ করার উপকরণ-
১। ১–২টি মাঝারি আকারের কাঁচা বিটরুট
২। ২–৩ চামচ কোকোনাট অয়েল বা জলপ্রমিত তেল
৩। ১–২ চামচ দই বা হেয়ার কন্ডিশনার
পদ্ধতি-
১।প্রথমে বিটরুটগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে ব্লেন্ডারে পিষে নিন। যদি পেস্ট খুব ঘন হয়, সামান্য পানি যোগ করতে পারেন।
২। পেস্টটি চাইলে এক চামচ তেল বা দই মিশিয়ে আরও মোলায়েম করা যায়। তেল চুলকে কোমল রাখে এবং রঙ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৩। চুলকে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ভেজা চুলে পেস্ট লাগালে রঙ ঠিকমতো বসবে না।
৪। পেস্টটি পুরো চুলে সমানভাবে লাগান। বিশেষ করে চুলের প্রান্তে আরও মনোযোগ দিন।
৫। হালকা প্লাস্টিক বা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে ১–২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যত দীর্ঘ সময় রাখবেন, রঙ তত বেশি গাঢ় হবে।
৬।পরে হালকা ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রথম ধোয়ার পর রঙ কিছুটা হালকা লাগতে পারে, তবে ধীরে ধীরে কয়েকবার ব্যবহার করলে রঙ আরও গভীর হয়।
সুরক্ষা ও সতর্কতা-
বিটরুটের রঙ কাপড় বা ত্বকে দাগ ফেলতে পারে, তাই পুরনো জামা বা হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করুন।
কেউ যদি বিটরুট বা অন্য উপাদানে অ্যালার্জি থাকে, আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন।
খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চুলে রঙ আগে টেস্ট করুন, তারপর পুরো চুলে ব্যবহার করুন।
প্রাকৃতিক হেয়ার কালার যেমন বিটরুট শুধু চুলের রঙ বদলায় না, বরং চুলের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। এতে চুল মোলায়েম, কোমল ও উজ্জ্বল থাকে। রাসায়নিক হেয়ার কালারের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী উপায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব, সেই সঙ্গে চুলকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যায়।
-বিথী রানী মণ্ডল










