শ্রীপুরের দুই একর জায়গায় সূর্যমুখী চাষ করে নজর কেড়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা কবির, বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়

গাজীপুরের কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের সূর্যমুখী বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের মানুষের কাছে বিনোদন ও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের অর্ন্তগত কায়েতপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ সূর্যমুখী ফুল যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাগানটিতে এসে ভিড় করছেন।

গত বছর প্রথম সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেন কবির হোসেন। সরকারি প্রণোদনায় বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যেই তার এই উদ্যোগের সূচনা। তবে ফুল ফোটার পর বাগানটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি মুহূর্তেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগমন শুরু হয়।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় দুই একর জমিতে বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। গত ২ সপ্তাহ থেকে ফুল ফোটা শুরু হলে প্রতিদিনই শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, গফরগাঁও এমনকি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন তার এ বাগানে।

কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। দর্শনার্থীরা জানান, যান্ত্রিক শহুরে জীবনের ক্লান্তি ভুলে এমন খোলা পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

তবে গত বছর দর্শনার্থীদের অসচেতনতা ও বাগানের মধ্যদিয়ে চলাচলের কারণে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রবেশ টিকেটের ব্যবস্থা করেছেন উদ্যোক্তা কবির হোসেন। প্রতিজন দর্শনার্থীর জন্য টিকেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বাগানটি পরিদর্শন এ ভিড় সবচেয়ে বেশী হয়। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এই সূর্যমুখী বাগানের প্রদর্শনী চলতে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা কবির হোসেন।তিনি জানান, এবার সূর্যমুখী বাগান করতে তার প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শুধু লাভের কথা ভেবে সূর্যমুখী চাষ করিনি। এত টাকা পুরোটা উঠে আসবে কি না তা নিশ্চিত না। তবে মানুষ এখানে এসে আনন্দ পাচ্ছে এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, সূর্যমুখী চাষ যেমন লাভজনক, তেমনি এটি গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙা হতে পারে।

মাহমুদুল হাসান, শ্রীপুর,গাজীপুর