ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও দেশটিতে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলার পর এবার তেহরানের ওপর নতুন করে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সম্ভাব্য হামলাটি আগের মতো কেবল নির্দিষ্ট পারমাণবিক কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং বিক্ষুব্ধ ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবারের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি-র প্রধান কার্যালয়, কমান্ড সেন্টার এবং তাদের অর্থনৈতির খাতের সাথে জড়িত বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের অভিযানের মূল চ্যালেঞ্জ হলো বেসামরিক জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আইআরজিসির বেশিরভাগ দপ্তর জনবহুল এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে হামলা চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, এতে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে আমেরিকা বিরোধী মনোভাব তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা তেহরানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জন্য প্রচারণার বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার মনে করেন, আইআরজিসি নেতাদের মধ্যে এমন ভীতি তৈরি করতে হবে যাতে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে। অন্যদিকে গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো পিটার লেটন জানিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে মার্কিন প্রশাসন বড় ধরনের ‘ড্রামাটিক’ কোনো হামলা বেশি পছন্দ করবে, যা বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের নজর কাড়বে।
এই সম্ভাব্য অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে বি-টু স্টিলথ বোম্বারের পাশাপাশি দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করা সম্ভব। ফলে মার্কিন বাহিনীর কোনো প্রাণহানির ঝুঁকি থাকবে না।
এছাড়াও জেএএসএসএম বা জয়েন্ট এয়ার টু সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল ব্যবহারের কথা ভাবছে পেন্টাগন। এটি এফ-ফিফটিন বা এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া যায়। তবে বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অবস্থান এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক বড় অভিযানের ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তেলের খনি বা বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোতে স্বল্প সময়ের অতর্কিত হামলা চালানোর পরিকল্পনাও ওয়াশিংটনের টেবিলে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-সাইমুন










