সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙন এলাকা রক্ষায় স্লোপ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ব্লক তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের আশায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তালা উপজেলাবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। মেলা বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় স্লোপ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বাঁধ নির্মিত হলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর বাঁধ নির্মাণের জন্য ব্লক তৈরির কাজ শুরু হয়। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দা স্বাধন মন্ডল, রফিকুল ইসলাম, নুরুল আমিন, রহিমা বেগম, কামরুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, তারা কপোতাক্ষ নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করেন। মাঝিয়াড়া মোড় থেকে মেলা বাজার পর্যন্ত নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওই পথ দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। তালা বাজারে যাতায়াতের প্রধান সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এখন প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হচ্ছে। স্লোপ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মিত হলে যোগাযোগ সহজ হবে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। কাজ শুরু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, তালার মেলা বাজারসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদীর তীরকে ভাঙন থেকে সুরক্ষায় সিসি ব্লক অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নদীভাঙন রোধ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কংক্রিট (সিসি) ব্লক ও জিওব্যাগ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নদীর তলদেশের মোটা বালি, পাথর ও সিমেন্টের মিশ্রণে তৈরি এসব ব্লক পরিবেশবান্ধব, দীর্ঘস্থায়ী এবং পোড়ানো ইটের তুলনায় সাশ্রয়ী। এগুলো মাটিক্ষয় কমিয়ে পানির প্রবল স্রোতে নদীর পাড় রক্ষা করে। ব্যবহৃত বালু, সিমেন্ট ও পাথরের গুণগত মান যথাযথ রয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজ করছে।
প্রকল্পের কার্যসহকারী ইকরাম হোসেন সার্বক্ষণিক কাজ তদারকি করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীরা নিয়মিত সরেজমিনে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করছেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে। এখন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল প্রদান করা হয়নি। কুয়েট ল্যাব টেস্টে ব্যবহৃত উপকরণের মান সঠিক পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে টাস্কফোর্স টিম ব্লক পরীক্ষা করে মান নিশ্চিত করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পাবে।
এম এম রবিউল ইসলাম, সাতক্ষীরা/










