প্রযুক্তির কল্যাণে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আর ঘোড়াঘাটের নারী উদ্যোক্তারা প্রযুক্তির কল্যাণে সফলতার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে নিজেরাও এগিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসলে নারী উদ্যোক্তারা আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন, উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নারী উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তার।
বর্তমান এই যান্ত্রিক কর্মব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রই আজ প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইনে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়ছে। নিত্য নতুন পন্থায় এই প্রযুক্তির কল্যাণেই তারা তৈরি করছেন তাদের নিজস্ব কর্মসংসস্থান। পোশাক , কসমেটিক্স, জুয়েলারী, অর্নামেন্টসসহ নানান পণ্যের ব্যবসা জনপ্রিয়তা পেয়েছে এখানে। আজকাল মানুষ ভিড় এড়িয়ে অনলাইনসহ বিভিন্ন পন্থায় কেনাকাটা করছেন। প্রযুক্তির ছোয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে সহজ। দিন দিনে নারীরাও আজ প্রযুক্তিবান্ধব হয়ে উঠেছেন।
বর্তমানে অনেক নারীই ডিজিটাল প্লটফর্মে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে করে ঘরে বসেই ঘর সংসারের কাজের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন নারীরা। অল্প পুঁজিতে নারীরা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের সফলভাবে প্রকাশ করছেন সমাজে।
তেমনি একজন নারী উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তার। পরিবারের কাজের পাশাপাশি অনলাইন পেজ খুলে ঘরে বসেই ছোট পরিসরে শুরু করেছিলেন সকল বয়সি ছেলে মেয়ে ও বাচ্চাদের আধুনিক নানা ধরনের পোশাক বেচাকেনা। এর পর থেকে স্বামী মো: রোবাইদ জান্নাত ও মা রানী বেগমের এর সার্বিক সহযোগিতায় ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগি হাট বাজারে স্থায়ী ভাবে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী আউটলেট। যার মাধ্যমে তার পোশাক পৌঁছে যাচ্ছে খুব তারা তাড়ী ক্রেতাদের কাছে।
বেশ কিছু সময় ধরে একটু একটু করে আজ এই অনলাইনের মাধ্যমে তার পোশাক বিক্রি করে তার মাসে আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে এ কার্যক্রমে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করেছি, ভালো চাকরির সুযোগও অনেক ছিল। কিন্তু নিজেরা কিছু করার তাড়না ছিল সব সময়। আবার সংসার ছেলে মেয়ে সামলে সুযোগ থাকলেও চাকুরী করা পসিবল ছিলনা। সেই থেকে নিজেদের ভেতরের তাড়না থেকে কাজ করা শুরু’। বিগত কিছু বছর ধরে একটু একটু করে আজ এই অনলাইনের পাশাপাশি একটি ভবন ভাড়া করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা চলতেছে।
আজ নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন নিজ প্রতিষ্ঠান। নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তৈরি করেছে অনেকের কর্মসংস্থানও। নিজের সফলতার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তারা তৈরি করছেন নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
এভাবে নিজের চেষ্টায় ছোটবড় সকলের পোশাক, কসমেটিক্স, গিফট কালেকশন, ব্যাগ, ঘড়ি, চশমা, বেল্টসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের সংগ্রহ তৈরি করেছেন তিনি, যা একটি মিনি সুপার মার্কেট হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
বর্তমানে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ফেইজবুক ভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমেও নিজের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন । যেসব নারীরা কিছু একটা করতে চায় অনলাইন পাল্টফর্মে, তাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
–সাকিব হাসান নাইম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)









