ইরানের অস্থিরতা পশ্চিমাদের পরিকল্পিত কাজ। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পরিস্থিতির সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপকভাবে ইরানের বিপক্ষে মানুষকে উস্কে দেয়। বৃহস্পতিবার ঢাকার ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকার ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইমাম, খতিব ও বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী সমসাময়িক নানা পরিস্থিতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী জানান, ইরানে ১ জানুয়ারি থেকে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ইরানের মুদ্রার সঙ্গে ডলার ও ইউরোর দামের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় তারা বিক্ষোভে নামেন এবং সরকারকে এ সমস্যার সমাধান করতে বলেন।
তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক বিষয় এবং সারাবিশ্বেই এমন হতে পারে। প্রথমদিকে আন্দোলন স্বাভাবিক থাকলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয়। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপকভাবে ইরানের বিপক্ষে মানুষকে উস্কে দেয়। ইরানের অভ্যন্তরীণ শত্রুরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দাঙ্গা ও সহিংসতা সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্দেশে তাদের প্রশিক্ষিত ভারী অস্ত্রধারী সশস্ত্র গোষ্ঠী সাধারণ আন্দোলনরত মানুষের ওপর গুলি চালায়। এতে অনেক নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়।
মীর মোহাম্মাদী জানান, এ সহিংসতার ধারাবাহিকতায় তারা বহু মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে, বাসে আগুন দিয়েছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে; দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। শুধু তাই নয়। তারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, যাদের মধ্যে ছিলেন মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী, হাসপাতালের নার্স, পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের নির্মমতা এতটাই ভয়াবহ ছিল– স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, এটি কোনো স্বাভাবিক আন্দোলনকারীদের কাজ নয়, বরং সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কার্যক্রম। ইরানের আপামর জনগণ, যারা ইমাম খামেনির পক্ষে অবস্থান করে, তারা কখনোই মসজিদ, বাস বা অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিতে পারে না। এটি মূলত পশ্চিমাদের পরিকল্পিত কাজ।
-সাইমুন










