কুলাউড়া পৃথিমপাশায় বালু মহালের লীজ গ্রহীতা কর্তৃক নদীর চর কেটে কোটি টাকার বালু বিক্রিকুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা হাজিপুর রাজাপুর মনু নদীর চর কেটে ও নদী খননের বালু অবৈধ ভাবে বিক্রির অভিযোগ।
বালু মহলালের ঠিকাদারী লাইসেন্স নং ১/১৪২৭। পৃথিমপাশা হাজিপুর রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের ৭.৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে অবৈধ ভাবে মনু নদীর চর কেটে ও মনু নদীর খননের সরকারী বালু রাস্তায় সরবরাহ করছে
সংশ্লিষ্ট বালুমহাল ঠিকাদারী প্রতিষ্ট্রান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিপক দে ও কুটি মিয়া গংরা প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সাইড ইঞ্জিনিয়ার রাহাতের যোগসাজশে লীজকৃত মহালের বালু দেখিয়ে অবৈধভাবে মনু নদীর চর কেটে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
আর উত্তোলিত বালু রাস্তা ভরাটসহ সম্মান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মজুত করে রাতের আঁধারে মাল্টি-এক্সেল ট্রাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
অবৈধ ভাবে মনু নদীর চর কেটে বালু উত্তোলনের ফলে উদ্ভোধনের আগেই রাজাপুর সেতুর মধ্যদিক দেবে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে সেতুর স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে সরকার হাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। ফলে আশপাশের বাড়ি ঘর সহ মনু নদীর পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে ।
কুলউড়া উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও নিচ্ছেননা কোন আইনি পদক্ষেপ। দায়সারা ভাবে একবার বালু উত্তোনকারীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার পর বালু উত্তোনকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
আবারও ড্রেজার মেশিন দিয়ে একাধিক ট্রাক ব্যবহার করে রাত দিন পৃথিমপাশা হাজিপুর সেতুর পাশের মনু নদীর বিশাল চর কেটে লাখ লাখ ঘন ফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই বালু বিক্রি হচ্ছে ও পরবর্তী বিক্রির জন্য অন্যত্র জমা করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে-কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম? এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের নীরবতাও প্রশ্নের মুখে।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও অতিরিক্ত লোডের কারণে মনু নদীতে ভাঙন, সংযোগ সড়কের ক্ষতি এবং সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রশাসন নীরব।
জামিল ইকবাল নামে একজন ঠিকাদার রাস্তা নির্মানের কাজ পাওয়ার পর দীপক দে নামে স্থানীয় এক ঠিকাদার রাস্তায় কাজের বালু দেওয়ার দায়ীত্ব নেন। তিনি ২২ সালে মনু নদী খননের স্তুপ করে রাখা বালু অবধ্য ভাবে নিয়ে রাস্তার কাজে বিক্রি করছেন। আলীনগর মৌজার
উপরিভাগ ও দত্তগ্রাম মৌজা থেকে মনু নদীর চর কেটে বালু হরিলুট চালাচ্ছেন। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট সাটিয়াজুড়ি সুন্দরপুর গ্রামের মেসাস্ রাহি ট্রেড্রার্স প্রো: নাজমুন নাহার লিপি নামে ১/১৪২৭ নং বালু মহলালের ঠিকাদারী লাইসেন্সে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক থেকে ইজারাকৃত বালু মহালের লীজ দেখিয়ে পৃথিমপাশা হাজিপুরে মনু নদীর চর কেটে এই বালু হরিলুট করছেন।
পৃথিমপাশা হাজিপুর রাজাপুর রাস্তার প্রকল্পের ঠিকদারী প্রতিষ্টানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার রাহাতের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের রাস্তার কাজে বালু সরবরাহ করছেন মেসাস্ রাহি ট্রেড্রার্সের দায়ীত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদর দীপক দে। তিনি তাহার মহালের বালু আমাদেরে দিচ্ছেন বলেছেন। আমরা আর কিছু জানিনা। এব্যাপারে তিনি ভাল বলবেন। আর আমাদের রাস্তার ম্যানেজার আখাইদ হোসাইন বলতে পারবেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ট্রানের ম্যানেজার আখাইদ হোসান বলেন, আমরা রাস্তার কাজ করছি। বালু ও মাটি দেওয়ার দায়ীত্ব মেসাস্ রাহি ট্রেড্রার্সের। তিনি কোথায় থেকে দিচ্ছেন তিনি জানেন।
মেসাস্ রাহি ট্রেড্রার্সের দায়ীত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদর দীপক দে মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের সুখনবি, দাউদপুর, পাইকপড়া, বাইগাঁও, কাউকাপন, জামলপুর, উপরিভাগ, মথাবপুর, কটারকোনা মৌজায় মনুনদীর কিছু দাগ থেকে ১৪৩২ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। জেলা প্রশাসকের সাথে চুক্তিকৃত সীমানা ছাড়াও বাহিরে ও মনু নদীর চর কেটে অবাদে বালু উত্তোলন করে বিক্রি কেন বিক্রি করছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই স্থান আমাদের প্রতিষ্ট্রানের লীজের মৌজার মধ্যে। প্রতিষ্ট্রানটি নদীর চর কাটতে পারে কিনা প্রশ্ন করলে নিউজটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সাথে তিনি দেখা করতে চান।
মের্সাস্ রাহি ট্রেড্রার্স প্রো: নাজমুন নাহার লিপি বলেন, আমরা কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে বালু মহাল লীজ এনেছি। আমাদের লীজে যে মৌজা আছে তা থেকে আমরা বালু তোলতে পারি। জলাশয় ছাড়া নদীর চর কেটে বালু উত্তোলনের অনুমতি জেলা প্রশাসকের চুক্তি পত্রে আছে কি প্রশ্ন করলে বলেন, এবিষয় আমার জানা নাই।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পায়েল বলেন, বালু মহালের লীজ গ্রহীতা তার নির্ধরিত জল সীমানার বাহিরে বালু উত্তোলন করতে পারেননা। এব্যাপারে আমি খুব দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেবো।