জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
শুনানিকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আনিস আলমগীরকে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন।
গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে: তার নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। তার গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের উৎস থেকে মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা পাওয়া গেছে।
দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, আনিস আলমগীরের ঘোষিত আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ অতিরিক্ত পাওয়া গেছে, যা তার মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি বিধায় এগুলো জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে গণ্য করে মামলাটি করা হয়েছে। তার আয়ের উৎসের মধ্যে টকশো, কনসালটেন্সি এবং প্লট বিক্রির কথা উল্লেখ থাকলেও বড় একটি অংশের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব মেলেনি।
আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।