ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় কাটানোর মাঝেই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিলেন মঈন আলী। বিপিএল খেলে দেশে ফিরে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। অবসর ভেঙে কাউন্টি ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী সাবেক ইংল্যান্ড তারকা।
কাউন্টি ক্লাব ইয়র্কশায়ার ২০২৬ মৌসুমের জন্য মইন আলিকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার জন্য বিশেষ চুক্তিতে ক্লাবটিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। চুক্তিতে ২০২৭ মৌসুম পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। আগামী মে মাসে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মঈনের।
আবু ধাবি টি-টেন, আইএল টি-টোয়েন্টি ও বিপিএল টানা কয়েক মাস ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার পর ইয়র্কশায়ারের সঙ্গে এই চুক্তি করেন মঈন। একই সঙ্গে তিনি আবারও দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের নিলামে নাম তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঈনের এই প্রত্যাবর্তন ইংলিশ ক্রিকেট অঙ্গনে বড় চমক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত মৌসুমে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট খেললেও মাঝপথে গ্লোবাল সুপার লিগ ও পরে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে টুর্নামেন্ট ছেড়ে যান তিনি। দা হান্ড্রেড থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী তাকে ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়তে হয়েছিল।
সেই সিদ্ধান্ত থেকেই এবার সরে এলেন মঈন। ইয়র্কশায়ার হবে তার তৃতীয় কাউন্টি দল। এর আগে দীর্ঘদিন উস্টারশায়ারের হয়ে খেলেছেন তিনি, পরে যোগ দেন ওয়ারউইকশায়ারে। ২০১৮ সালে উস্টারশায়ারকে প্রথম টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট শিরোপা এনে দেন অধিনায়ক হিসেবে। ইনঅগারাল দা হান্ড্রেডে বার্মিংহাম ফিনিক্সকে ফাইনালেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন মঈন। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট শুরুর আগে তাকে দেখা যাবে পাকিস্তান সুপার লিগে।
ইয়র্কশায়ারে সতীর্থ হিসেবে পাবেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ইংল্যান্ড দলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ আদিল রাশিদ ও জনি বেয়ারস্টোকে। চুক্তি শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মঈন আলী বলেন,’হেডিংলিতে খেলতে আমি সবসময়ই ভালোবাসি। এখানকার উইকেট, পরিবেশ আর সমর্থকেরা জায়গাটিকে বিশেষ করে তোলে। এটি আমার জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞতা ও ক্ষুধা নিয়ে ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলতে চাই।’
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে এখন পর্যন্ত ১২৬ ম্যাচে ৩টি সেঞ্চুরিসহ ৩,১৭৮ রান করেছেন মঈন আলী। ১৪১.২৪ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৯৯টি উইকেট।
-এমইউএম










