পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি

সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা এবং সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে নাগরিকদের এই জোট।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন সংগঠনটির যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন।

বক্তব্য দেন আদিবাসী অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমিলা, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

আবু সাঈদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত আঞ্চলিক পরিষদ গঠন ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজন জরুরি। এতে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে সমতল ও পাহাড়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভোটারকে অবাধে যাতায়াত নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে যথাযথ ক্ষমতায়ন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করা এবং সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য আলাদা ভূমি কমিশন গঠন।

-সাইমুন