যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপ নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না, সতর্কবার্তা ন্যাটো প্রধানের

ছবি : সংগৃহীত

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপ নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনার পর ইউরোপকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জোরালো হওয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে ট্রান্স-আটলান্টিক জোটে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তবে রুটের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন।

এই কূটনৈতিক সংকট ইউরোপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং ওয়াশিংটনের ওপর সামরিক নির্ভরতা কমানোর পক্ষে থাকা মহলকে নতুন গতি দিয়েছে।

ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে রুটে বলেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। ‘এটি সম্ভব নয়,’ তিনি জোর দিয়ে বলেন।

রুটে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে ন্যাটোর নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য দ্বিগুণ করে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র গড়ে তুলতে বিশাল ব্যয় করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতা ছাড়া চূড়ান্ত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নেই।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইউরোপীয়দের নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।

রুটে জোর দিয়েছেন, ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা—আর্টিকেল ফাইভ—সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে যে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সামরিক ব্যয় আরও বাড়াবে। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ইউরো-অ্যাটলান্টিক অঞ্চল এবং একটি নিরাপদ ইউরোপ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ স্বার্থ রয়েছে।

ন্যাটো প্রধান ট্রাম্পের প্রশংসা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতির বিকল্প হিসেবে সম্ভাব্য ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব কার্যত নাকচ করেছেন তিনি। রুটে বলেন, এটি পরিস্থিতি আরও জটিল করবে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তা পছন্দ করবেন।

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে রুটে বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত যে আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় ন্যাটো আরও দায়িত্ব নেবে। তবে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষের বিষয়। তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কের পক্ষে আলোচনা করার কোনো ম্যান্ডেট আমার নেই।’

রুটে আরও জানান, আফগানিস্তানে ন্যাটো মিত্রদের যে মূল্য দিতে হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পকে। প্রতি দুই মার্কিন সেনার আত্মত্যাগের বিপরীতে একজন ন্যাটো মিত্র দেশের সেনা ঘরে ফেরেননি। তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সব প্রচেষ্টার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

আফরিনা সুলতানা/