কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের নতুন এআই মডেল ওপেনএআই ও গুগলের সমমানের মডেলগুলোর চেয়ে ভালো ফল দিচ্ছে। সোমবার আলিবাবা ক্লাউড তাদের সবচেয়ে উন্নত রিজনিং মডেল কিউওয়েন৩-ম্যাক্স-থিংকিং উন্মোচন করে।
আলিবাবা জানায়, এই মডেলটি এক ট্রিলিয়নের বেশি প্যারামিটার দিয়ে তৈরি। সহজ ভাষায়, প্যারামিটার মানে হলো এআইয়ের শেখার ক্ষমতার একক। যত বেশি প্যারামিটার, তত জটিল কাজ বোঝার সক্ষমতা। মডেলটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন টোকেন দিয়ে, যা আলিবাবার ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।
এই এআই মডেলে নতুন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার নাম ‘টেস্ট-টাইম স্কেলিং’। এর অর্থ, কাজ করার সময় মডেল নিজেই আগের ভুল বা সিদ্ধান্ত থেকে শিখে আবার চিন্তা করতে পারে। এতে সময় কিছুটা বেশি লাগে, তবে ফল হয় আরও নির্ভুল।
আলিবাবার দাবি অনুযায়ী, কিউওয়েন৩-ম্যাক্স-থিংকিং জটিল বৈজ্ঞানিক ও গণিতভিত্তিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করেছে। পিএইচডি পর্যায়ের প্রশ্ন যাচাইয়ের পরীক্ষায় এটি ৯২ দশমিক ৮ নম্বর পেয়েছে। গণিতভিত্তিক কিছু পরীক্ষায় টুল ব্যবহার করলে এটি শতভাগ নম্বরও অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই মডেল ডিপসিক, ক্লড ও জেমিনির মতো জনপ্রিয় এআই মডেলের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে বলে তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
আলিবাবার কিউওয়েন সিরিজ ওপেন-সোর্স এআই হিসেবেও বড় সাফল্য পেয়েছে। চলতি মাসে এই সিরিজ থেকে তৈরি মডেলের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে। ডাউনলোড হয়েছে এক বিলিয়নের বেশি।
এ ছাড়া নতুন মডেলটিতে ‘এজেন্ট’ সুবিধা রয়েছে। এতে এটি নিজে থেকেই বুঝতে পারে কখন সার্চ, কোড বা তথ্যভান্ডার ব্যবহার করতে হবে। ফলে ভুল তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি কমে।
এই প্রযুক্তি ধাপে ধাপে আলিবাবার বিভিন্ন সেবায় যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তাওবাও, আলিপে, ভ্রমণ বুকিং ও খাবার অর্ডারের মতো সেবা।
-সাইমুন










