নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। সোমবার দুপুরে ফতুল্লার দাপা এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি দাবি করেন, এলাকায় এখনো অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
অস্ত্রের মুখে প্রচারণায় বাধা
আল আমিনের অভিযোগ, রোববার রাতে পঞ্চবটি এলাকায় তাঁর কর্মীরা নির্বাচনী ব্যানার লাগাতে গেলে তাঁদের ওপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় একদল সন্ত্রাসী। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিল, তারাই এখন প্রার্থী হয়ে তাদের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সাধারণ কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।”
প্রশাসনের ‘রহস্যজনক’ নীরবতা
নারায়ণগঞ্জকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা উল্লেখ করে আল আমিন বলেন, রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট করতে হবে কেন তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তাঁর ভাষ্যমতে:
“সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো লিয়াজোঁ বা বোঝাপড়া হয়েছে কি না, তা আমাদের জানার অধিকার আছে। দিনের পর দিন মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।”
পলাতক আসামিদের প্রকাশ্য পদচারণা।
নির্বাচনী মাঠে ওয়ারেন্টভুক্ত হত্যা মামলার আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এই প্রার্থী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিগত সরকারের আমলে গডফাদারদের মদদপুষ্ট হয়ে যারা চাঁদাবাজি ও গার্মেন্টস পোড়ানোর মতো অপরাধে জড়িত ছিল, তারা কীভাবে বুক ফুলিয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে? বিশেষ করে, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা ‘নৌকার চেয়ারম্যান’ কীভাবে পুনরায় প্রকাশ্যে এসে মহড়া দিচ্ছেন, সেই নিরাপত্তাবলয় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
‘জনগণ প্রতিরোধে নামলে পালাবার পথ পাবেন না’
ভয়ভীতি ও অস্ত্র প্রদর্শন করে ভোটের মাঠ দখলের চেষ্টা সফল হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি মনে করিয়ে দেন, নারায়ণগঞ্জে অতীতে বড় বড় ‘গডফাদার’দেরও জনরোষের মুখে পালাতে হয়েছে। জনগণ এবার ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নিরব রায়হান, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মাহফুজ খান এবং মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
-সাইমুন










