নান্দাইলে সিএনজি চালককে কুপিয়ে হত্যা, গুরুতর আহত আরও ২

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় বাড়ির সামনে সিএনজি রাখাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে নিহতের আরও দুই স্বজন গুরুতর জখম হয়েছেন। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার অরণ্যপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চালকের নাম আবুল কালাম (৩৫), তিনি অরণ্যপাশা গ্রামের মৃত আরজ আলীর ছেলে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। অরণ্যপাশা ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশেই তাঁদের বাড়ি। বাড়ির সামনে থাকা কাঁচা রাস্তার ওপর কালামের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়, পাশেই ছিল তাঁর সিএনজিটি।

নিহতের ভাতিজি শিমু আক্তার জানান, তাঁর চাচা প্রতিদিন দুপুরে প্রতিবেশী মৃত হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে সিএনজি রেখে ঘরে খাওয়া-দাওয়া করতে যেতেন। কিন্তু কয়েক দিন আগে হাবিবুরের ছেলে রবিন, শামীম ও আল-আমিন সেখানে সিএনজি রাখতে নিষেধ করেন। সেই থেকে গত দুদিন ধরে কালাম তাঁর সিএনজিটি বাড়ির পাশের বড় কাঁচা রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রেখে খেতে যেতেন।

সোমবার বেলা ২টার দিকে সরকারি রাস্তার ওপর সিএনজিটি রাখার সময় প্রতিপক্ষরা আবুল কালামকে টেনে-হিঁচড়ে নিজেদের বাড়ির উঠানে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। কালামের চিৎকার শুনে স্বজনরা ছুটে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরও কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে আক্রমণকারীরা মুমূর্ষু অবস্থায় কালামকে পুনরায় রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায় এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহত আবুল তাহের ও সুমনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। হাসপাতালে তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নিহতের বোন মঞ্জুরা ও সুফিয়া আহাজারি করে বলেন, “হামলাকারীরা বাড়ির কাছে সিএনজি রাখতে নিষেধ করার পর কালাম সেখানে না রেখে সরকারি রাস্তার ওপর রাখছিল। এরপরও কোন অপরাধে তারা আমার ভাইকে কুপিয়ে খুন করল?”

ঘটনার পর পরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমীন জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

-সাইদুর রহমান,ময়মনসিংহ