দীর্ঘ ১৭ মাস সৌদি আরবে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে দেশে ফিরেছিলেন মহিউদ্দিন (৪৫)। কিন্তু বাড়ির আঙিনায় পা রাখার আগেই ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারালেন তিনি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে মাগুরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর জানা যায়, তাঁর বিদেশ থেকে আনা নগদ টাকা, মূল্যবান মালামাল এমনকি পাসপোর্টটিও নিয়ে গেছে প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন ঝিনাইদহ জেলার ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের মৃত জাহার আলী মন্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় তিনি সৌদি আরব থেকে ঢাকায় নামেন। রোববার সকালে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা থেকে মাগুরাগামী ‘সোহাগ পরিবহন’-এর একটি বাসে ওঠেন।
হিউদ্দিনের স্বজনরা জানান, বাসে ওঠার পর পাশের সিটের এক যাত্রী নিজেকে ‘মালয়েশিয়া প্রবাসী’ পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আলাপের ছলে ওই ব্যক্তি নেশাজাতীয় কোনো দ্রব্য খাইয়ে বা সুঁকিয়ে মহিউদ্দিনকে অচেতন করে ফেলেন। বাসের স্টাফদের ভাষ্যমতে, মধুখালী এলাকায় ওই ‘ভুয়া প্রবাসী’ নিজের ব্যাগ নিয়ে নেমে যান। বিকেল ৩টার দিকে বাসটি মাগুরায় পৌঁছালে সুপারভাইজার মহিউদ্দিনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর বা স্বজনরা আসার পর দেখা যায়, মহিউদ্দিনের সঙ্গে থাকা প্রায় লক্ষাধিক নগদ টাকা, সৌদি থেকে আনা মূল্যবান সামগ্রী এবং তাঁর সবচেয়ে জরুরি নথি—পাসপোর্টটি পর্যন্ত নেই। মহিউদ্দিনের স্ত্রী সুমি জানান, দুপুর ১টার দিকে ফোন দিলেও সাড় না পাওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন ক্লান্ত স্বামী হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে আসা একটি ফোন কল তাঁর সব আনন্দ বিষাদে পরিণত করে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে বাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং সহযাত্রীর তথ্য যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।