ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “সাদ্দামের মতো কর্মীরা যাদের নেতা বানিয়েছে, সেই নেতারাই আজ তার পরিবারের খোঁজ নেয়নি। এমন নেতা বেছে নেবেন না, যারা কর্মীর দুঃসময়ে পাশে থাকে না।”
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী সভায় রুমিন ফারহানা বাগেরহাটের কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “সাদ্দাম ছাত্রলীগ করতেন, কিন্তু গত ১৫ বছরে ছাত্রদলেও এমন অনেক কর্মী ছিল যারা দলকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছে। যে কর্মী নেতাকে নেতা বানাতে গিয়ে কারাগারে যায়, অথচ সেই নেতার অবহেলায় কর্মীর স্ত্রী-সন্তান হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নেয়—এমন নেতৃত্ব কারোরই কাম্য নয়।”
সাদ্দামের স্ত্রী সুবর্ণা ও ৯ মাস বয়সী সন্তান নাজিফের মৃত্যু এবং কারাফটকে শেষ দেখার করুণ দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাদ্দাম যখন কারাগারে, তখন একজন নেতাও ছিল না যে তাকে একদিনের জন্য প্যারোলে বের করে আনবে। স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ কারাগারে নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ মিনিট তাদের দেখার সুযোগ পেয়েছে সে। এটি কেবল একটি মৃত্যু নয়, এটি নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা।”
উপস্থিত জনতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে রুমিন ফারহানা বলেন, “গত ১৫ বছরে বিএনপির অনেক ‘বড় বড় কুতুবের’ মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল, নম্বর ছিল বিদেশি। কর্মীরা তাঁদের নাগাল পেত না, তখন তারা আমার কাছে আসত। তাই নেতা বাছাইয়ের সময় সাবধান হোন। সাদ্দামের মতো করুণ পরিণতি যেন বাংলাদেশের কোনো দলের কর্মীর কপালে আর না ঘটে।”