ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাউসার আমীর আলীসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশ অমান্য করে ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব ডেটা সেন্টার তৈরির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন। দুদকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামি হলেন ডেসকোর প্রধান প্রকৌশলী শামীম আহসান চৌধুরী।
এজাহারে বলা হয়, আসামি কাউসার আমীর আলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের টেন্ডার কাজ পাইয়ে দেওয়া, নথি জাল করে আইসিটি বিভাগ ওরাকলে লাইসেন্স নবায়নসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত দুদক প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়– মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থা নতুন কোন প্রকল্পে ডেটা সেন্টার তৈরি করতে পারবে না। এরই মধ্যে যে প্রকল্পে এ সংশ্লিষ্ট বাজেট রয়েছে, তা আবশ্যিকভাবে ফেরত দিতে হবে এবং তাদের ডেটা সরকারি ডেটা সেন্টারে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে আইসিটি বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং অধীন দপ্তর-সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটা কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গত ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হাইটেক সিটি, কালিয়াকৈর, গাজীপুরে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল) নামে সরকারের সেন্ট্রাল ডেটা সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে।
২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল ডেসকো ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য উল্লিখিত স্মারকের প্রজ্ঞাপন না মেনে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় ৭১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ক্ষমতার অপব্যবহার মর্মে প্রতীয়মান হয়। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলীর পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পূর্বানুমতি ব্যতীত নিজস্ব ডেটা সেন্টার তৈরি করে রাষ্ট্রের ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তারা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
-সাইমন










