সিলেট-৫ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি জোটের প্রার্থীকে শোকজ

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ, কানাইঘাট) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেছে নির্বাচন কমিশন।

নোটিশে উবায়দুল্লাহ ফারুকের বিরুদ্ধে নির্বাচন–পূর্ব অনিয়মের অভিযোগে কেন তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীর উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারের কমিটির সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের কমপক্ষে ৩০ দিনের আগে থেকেই প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার পরিপন্থী।

নোটিশে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট, ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে—মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক নিজে ও তার সমর্থকেরা জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে
‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলা বাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে উবায়দুল্লাহ ফারুকের উপস্থিতিতে শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালনের নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস এবং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা সভাস্থলে উপস্থিত হলে উবায়দুল্লাহ ফারুকের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ভয়ভীতি সঞ্চারের জন্য উচ্চ স্বরে কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখা দিলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিত হলে সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি অশালীন আচরণ করেন। এ সময় কর্মকর্তারা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও নেতাদের অবিলম্বে অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ জানানো হলেও নির্বাচনী প্রচারণা চলমান রেখে প্রার্থী ভোট প্রার্থনা করেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন, আইন ও বিধির তোয়াক্কা না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৮ ও ১৫ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এ জন্য কেন তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীর উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এখনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

-সানা