হাইকোর্টে বৈধ হলেন বিএনপি প্রার্থী মোবাশ্বের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন। তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। অন্যদিকে ইসির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। এর আগে মনোনয়নপত্র নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনে শুনানির পর ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে কুমিল্লার এই আসনে আবুদল গফুর ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তবে মোবাশ্বের আলমও দলীয় হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ঋণ খেলাপের অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় মোবাশ্বের আলমের। মনোনয়ন ফিরে পেতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা নামঞ্জুর করে ইসি। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করায় গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রার্থী কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় নির্বাচন ভবনে উভয় পক্ষের আপিল শুনানি শেষে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। এরপর ২১ জানুয়ারি তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। অবশ্য হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়ার দায়ের করা আপিলের শুনানি আজ সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যয়ন না থাকায় মোবাশ্বের আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। তিনি গত ১০ ডিসেম্বর এককালীন অর্থ পরিশোধ করায় ২৯ ডিসেম্বরের আগে ঋণ পুনঃতপশিল হয়। তাই তিনি এখন খেলাপি নন। নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে তিনি মনোনয়নের চিঠি নিয়ে ইসিতে হাজির হলে জানানো হয়, হাতে হাতে চিঠি নেওয়া হবে না। এ কারণে তিনি রিট করেন।

-সাইমু্ন