রূপগঞ্জে জামায়াতের কার্যালয় বন্ধের হুমকি, বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচার কার্যালয় ইট ও বালু ফেলে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার সকালে রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের হাংকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী নির্বাচনি কার্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে ট্রাকভর্তি ইট ও বালু ফেলে রেখে কার্যালয়টি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইসরাফিল হোসাইন রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, এর আগেও মহিলা জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণাসহ দুই দফায় বাধা ও হামলার ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী দাউদপুর ইউনিয়নের হাংকুর এলাকায় নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নেয়। তবে শুরু থেকেই দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন ওই স্থানে অফিস স্থাপনে বাধা দিয়ে আসছিলেন। রোববার সকালে জামায়াতের কর্মীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, মূল প্রবেশপথে ইট ও বালুর স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে, ফলে অফিসে প্রবেশ এবং প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

জামায়াতের কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিনের নির্দেশেই এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ করা।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “এর আগেও আমরা একাধিকবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছি। একদিন যেতে না যেতেই রাতের আঁধারে আমাদের নির্বাচনি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত অফিস খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় প্রশাসন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করতে বাধ্য হবো।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কে বা কারা ইট ও বালু ফেলে গেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

এ প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, “দাউদপুর ইউনিয়নের হাংকুর এলাকায় জামায়াতের নির্বাচনি অফিসের সামনে ইট ও বালু ফেলার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

-নজরুল ইসলাম বাদল,নারায়ণগঞ্জ