প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ফেরতের শেষ দিন ছিল আজ কিন্তু

সময়, প্রস্তুতি ও সীমাবদ্ধতা ঘিরে প্রশ্ন:
আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ফেরত পাঠানোর শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ব্যালট পাঠানো না হলে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে না এবং ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
ইসি সূত্র জানায়, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে -১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন বিকাল সাড়ে ৪:০০টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পৌঁছাতে হবে।
নিবন্ধন ও ব্যালট বিতরণের চিত্র:
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটের জন্য ‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের ঠিকানায় ইতোমধ্যে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, যার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত ভোটারদের।
ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ধাপে ধাপে ব্যালট বিতরণ করা হলেও ডাক ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা বিবেচনায় এনে ইসি আগেভাগেই ২৫ জানুয়ারির সময়সীমা নির্ধারণ করে।
কেন সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ:
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশে ডাক পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে আজকের পর পাঠানো ব্যালটগুলো ভোটের আগেই পৌঁছাবে কিনা, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
একই সঙ্গে ব্যালট গ্রহণ, যাচাই ও সংরক্ষণের প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়টিও সময়সীমা নির্ধারণে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বিতর্ক ও আপত্তি:
তবে এই সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আপত্তিও উঠেছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও প্রবাসী সংগঠন দাবি করেছে, বিভিন্ন দেশে সাপ্তাহিক ছুটি, ডাকঘরের সীমাবদ্ধতা এবং দেরিতে ব্যালট পৌঁছানোর কারণে অনেক ভোটার সময়মতো ব্যালট পাঠাতে পারেননি। তাদের পক্ষ থেকে সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও নির্বাচন কমিশন এখনো সে বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি।
ইসি বরং সতর্ক করে জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ভোটারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রও স্থগিত করা হতে পারে।
বিশ্লেষণ:
প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও বাস্তব প্রয়োগে সময়সীমা, ডাক ব্যবস্থার সক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আজকের সময়সীমা কার্যত প্রবাসী ভোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। কতগুলো ব্যালট সময়মতো দেশে পৌঁছায় এবং কত শতাংশ ভোট গণনায় যুক্ত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ব্যবস্থার সফলতা নিয়ে ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন। একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী
নির্বাচনগুলোতে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।
-এজাজ আহম্মেদ