অঝোর ধারায় চোখের জল আর বুকফাটা আর্তনাদের মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হলো বাগেরহাটের গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র সেজাদ হাসান নাজিফকে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
এর আগে রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। গত শুক্রবার স্বামীর বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত ও কারাফটকে শেষ দেখা শেষে দিবাগত রাতে নিজ গ্রামে পৌঁছায় মরদেহবাহী গাড়ি।
সন্তান জন্মের পর থেকে কারাগারে থাকা বাবা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম তার ৯ মাস বয়সী সন্তানকে জীবদ্দশায় একবারও কোলে নিতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে জুয়েলকে স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে কারাফটকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়।
প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, জুয়েল যশোরের কারাগারে থাকায় আবেদনটি সেখানে করা প্রয়োজন ছিল। তবে জেলা প্রশাসন থেকে তাদের মরদেহ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।
সুবর্ণার ভাই মো. শুভ প্রশাসনের কাছে এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তার মতে, স্বামী কারাবন্দি থাকায় সুবর্ণা চরম হতাশায় ছিলেন, তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে সুবর্ণার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু।
জুয়েল হাসান নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং গত বছরের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে বন্দি আছেন।