‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ’: প্রণয় ভার্মা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়নের সহায়ক এবং একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করার জন্য যথাযথ অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের এই যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী।”

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক
হাইকমিশনার বলেন, ঢাকা ও দিল্লি একটি ‘ভবিষ্যৎমুখী ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত সহযোগিতা’ চায়। এই অংশীদারিত্ব বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ, সুবিধা ও সংবেদনশীলতায় টিকে আছে।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই দেশের যৌথ আত্মত্যাগের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বিদ্যমান, যার সাংস্কৃতিক বন্ধনও অত্যন্ত গভীর।

আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা
প্রণয় ভার্মা আঞ্চলিক সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহকারী পাইপলাইন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গ্রিড লাইন আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমাদের সাপ্লাই চেইন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতার সুফল প্রমাণ করে।”

তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে ‘আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর’ গড়ে তুলতে পারে, যা একটি পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানের শেষে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”


মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক