দেশের উচ্চ আদালতের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য ৪৬টি জুডিসিয়াল সার্ভিস ক্যাডার পদসহ মোট ২১৩টি নতুন পদ স্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিনিয়র সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পদ সৃজনের বিস্তারিত ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রকাশিত গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, নবসৃজিত ২১৩টি পদের মধ্যে উচ্চপদস্থ বেশ কিছু প্রশাসনিক পদ রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিনিয়র সচিব পদ, চারটি অতিরিক্ত সচিব, চারটি যুগ্ম সচিব, ১৭টি উপসচিব এবং ২০টি সিনিয়র সহকারী সচিবের পদ সৃজন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একজন মুখ্য হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কাজের পরিধি ও দক্ষতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারিগরি ও সহায়ক জনবল প্রশাসনিক পদের পাশাপাশি সচিবালয়ের কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে আইটি ও অন্যান্য সেবামূলক পদেও জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সিস্টেম অ্যানালিস্ট, প্রোগ্রামার ও মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়াও দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে অডিটর, ফটোগ্রাফার এবং গাড়িচালকের পদও এই গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদগুলো সৃজনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যানবাহন এবং অফিস সরঞ্জামাদিও (টিওঅ্যান্ডই) মঞ্জুর করেছে সরকার।
বেতন স্কেল ও আর্থিক সংশ্লিষ্টতা গেজেটে উল্লিখিত পদগুলোর মধ্যে বেতন স্কেলের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে। জুডিসিয়াল সার্ভিস ক্যাডারের আওতাভুক্ত ৪৬টি পদের মধ্যে ৪৫টি পদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘২০১৬ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল’ অনুযায়ী। অন্যদিকে, সিনিয়র সচিব পদসহ বাকি ১৬৮টি পদের বেতন ও ভাতাদি ‘২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল’ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এই নতুন পদসমূহ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের যাবতীয় ব্যয়ভার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই মেটানো হবে।
আইনি প্রক্রিয়া ও অনুমোদন এই পদ সৃজন প্রক্রিয়াটি ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত ‘পদ সৃজন কমিটির’ সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালন করা হয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি আদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয় এবং সর্বশেষ গতকাল গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এটি পূর্ণতা পেল।