গোপালগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান এক ব্যতিক্রমী পন্থায় তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে যান। সেখানে কবরের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ৩ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি কবর জিয়ারত করেন। এর আগে তিনি স্থানীয় বিখ্যাত আলেম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবরও জিয়ারত করেন।
হাবিবুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। এই আসনে বিএনপি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপি হাবিবুর রহমানসহ জেলার তিন নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। তবে হাবিবুর রহমানের দাবি, তিনি অনেক আগেই ডাকযোগের মাধ্যমে দল থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন।
বহিষ্কৃত এই নেতার নির্বাচনী প্রতীক হলো ‘ফুটবল’। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চান। হাবিবুর রহমান বলেন, “গোপালগঞ্জ-৩ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানকার কৃতি সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি প্রচার শুরু করেছি। আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই এবং সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে চাই।”
গোপালগঞ্জ বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য কার্যক্রম না থাকায় এই আসনে এখন বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এস এম জিলানী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও হাবিবুর রহমানের মতো ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা ভোটের সমীকরণে কতটুকু প্রভাব ফেলবেন, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
–লামিয়া আক্তার