বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, ৯ এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ছুটির দিনের সকালের বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বায়ুদূষণের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ নগরীগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল নয়টার দিকে বিশ্বের ১২৫টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এ সময় ঢাকার বায়ুর মান সূচক দাঁড়ায় ২৬৭। তবে নগরীর দুটি এলাকায় দূষণের মাত্রা ছিল ‘দুর্যোগপূর্ণ’, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্তর হিসেবে বিবেচিত।

বায়ুদূষণের এই চিত্র তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শহরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশ করে থাকে। তাদের তৈরি লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচকের মাধ্যমে কোনো শহরের বাতাস কতটা পরিষ্কার বা দূষিত, সে বিষয়ে তথ্য ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। আজ ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা বিবেচনায় নগরবাসীর জন্য একাধিক সতর্কতামূলক পরামর্শও দিয়েছে আইকিউ এয়ার।

ছুটির দিনে সাধারণত রাজধানীতে যানবাহনের চলাচল কম থাকে এবং অনেক শিল্পকারখানাও বন্ধ থাকে। অথচ ঢাকার বায়ুদূষণে যানবাহন ও শিল্পকারখানার অবদান উল্লেখযোগ্য। আজ বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে বসনিয়া হারজিগোভিনার রাজধানী সারায়েভো। শহরটির বায়ুর মান সূচক ছিল ৪৩৩।

ঢাকায় বায়ুদূষণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসজুড়ে এবং চলতি জানুয়ারিতেও প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে।

বায়ুর মান সূচক ২০০ ছাড়ালে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। আর সূচক ৩০০ অতিক্রম করলে সেটিকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সারা দেশেই বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা রাজধানীর চেয়েও বেশি। যদিও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কার্যক্রমগুলো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক, তবু এসব উদ্যোগ থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ভয়াবহ দূষণ নগরীর ৯ স্থানে

আজ সকালে ঢাকার নয়টি এলাকায় বায়ুর মান অত্যন্ত খারাপ ছিল। এর মধ্যে একটি স্থানের অবস্থা ছিল ‘দুর্যোগপূর্ণ’। ওই স্থানটি হলো নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড এলাকা, যেখানে বায়ুর মান সূচক ছিল ৪১৮। অন্যান্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি (২৯৫), পল্লবী (২৮২), মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং (২৭৪), বে’জ এইজ ওয়াটার (২৭১), বেচারাম দেউড়ি (২৭০), গোরান (২৪৯), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকা (২৩৮) এবং পীরেরবাগ রেললাইন (২০৪)।

দেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখনো নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

সুরক্ষায় নগরবাসীর করণীয়

আইকিউ এয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, ঢাকার বর্তমান বায়ুর মানে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। খোলা জায়গায় ব্যায়াম না করার এবং ঘরের জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-আফরিনা সুলতানা