ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে আরও পাঁচ দিনের সময় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি এবং সময়ের আবেদন করে।
শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর আগে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দাখিল করেন। আদালত তার নারাজি মঞ্জুর করে মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত প্রধান আসামি হলেন: ফয়সাল করিম মাসুদ (দাউদ), তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পি), ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। এরা বর্তমানে পলাতক।
বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী (উজ্জ্বল), ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম (রাজু) এবং নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক ফয়সাল।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে, পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে আহত হন। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অপারেশনের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
-এমইউএম










