মনোহরদী উপজেলা প্রতিনিধিদুর্ভিক্ষের বছর ১৯৭৪। পিতার একার আয়ে সংসার চলছিল না। সেই সময় থেকেই নাও মেরামতির কাজে নামা পরিমল সূত্রধর। হিসেব করলে আজ প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি এই পেশায়। ভর দুপুরে ঘোরস্বাবো গাঙের পাড়ে একা একমনে কাজ করে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ পরিমল মিস্ত্রি। মাথার ওপর অনুদার তাপঢালা সূর্যালোক।
অদূরে সরাইলের ঝাঁক উড়াউড়ি করছে, নদীর কিনারে কিনারে লাল শাপলার হাসি। কিন্তু কোনদিকে মনোযোগ নেই তাঁর—সব মনোযোগ নাও মেরামতির কাজে।
বয়স ৬৯। দুর্বল শরীর কাঠামো, মুখে অর্ধেকও দাঁত নেই। বাঁকা পা, দুর্বল চলাফেরা। তবু প্রতিদিন ৮০০ টাকা রোজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন তিনি, তিনবেলা খাবারসহ। বাড়ি কাপাসিয়ার কড়িহাতা গ্রামে। সংসারে তিন ছেলে ও এক মেয়ে—সবাই যে যার মতো আছে। খুব যে অভাব-অনটনের তাড়নায় কায়িক শ্রম, তাও নয়। কাজ করলে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে, সঙ্গে আসে দু’টি পয়সা।
নিপুণ হাতে টুকটাক ঠুকঠাক করে নাও সারাইয়ের কাজ করে চলেছেন তিনি। পাশে আরেকটি নাও—উপোড় করা, আলকতরা মাখা—সেটিও তাঁর হাতেই সারাই হয়েছে। শুধু এখানেই নয়, আশপাশের ১০–২০ গ্রামেও ডাক পড়ে পরিমল সূত্রধরের নাও মেরামতির কাজে।
সাইফুর নিশাদ
মনোহরদী উপজেলা










