আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব আগ্নেয়াস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে তাঁদের জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনাররাও এ নির্দেশনার বাইরে থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও ভয়ভীতির ঝুঁকি কমাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে ভোটের পরিবেশ আরও নিরাপদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র জমা ও বহনের নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি ও নজরদারি জোরদারের ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।
-আফরিনা সুলতানা/










