তাজুলের ‘মব’ সতর্কবার্তাকে হুমকি মনে করছেন রাজনীতিবিদেরা

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে ‘মব’ (Mob) শব্দটি ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাজুল ইসলামের দেওয়া সতর্কবার্তাকে ‘হুমকি’ এবং ‘মব সহিংসতাকে উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংলাপে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা।
সংলাপে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মানসিকতা কাজ করতে পারে। তাই এই শব্দ ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।” তিনি যুক্তি দেন যে, গণভবন পতনের আন্দোলনের মতো বিপ্লবী অর্জনকে ছিনতাই বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। তার মতে, বিপ্লবের অর্জনের সঙ্গে ‘মব’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছোট করার চেষ্টা হলে তা সংযত হওয়া উচিত।
তাজুল ইসলামের এই বক্তব্যের পরপরই সংলাপে উপস্থিত বক্তারা এর তীব্র সমালোচনা করেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “আইনের শাসনের কথা বলেও যদি মবকে উসকানি দেওয়া হয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এই বক্তব্যকে সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন।
সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, বর্তমানে দেশে আইনের শাসনের বদলে ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে। তথাকথিত তৌহিদি জনতা যেভাবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, তাতে শুধু প্রতীকী উদ্যোগে আইনের শাসন ফিরবে না।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, মবকে সুযোগ দেওয়ার ফলেই এখন তারা সরকার, ইসি ও রাষ্ট্রকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।
সংলাপ সঞ্চালনা করেন সিজিএস-এর প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। তিনি এক উদ্বেগজনক তথ্য দিয়ে বলেন, “আগে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন বলেছিলেন ‘মব নেই, তারা চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী’, তার পরপরই বিভিন্ন অঘটন ঘটেছে। এখন আবার মবের পক্ষে এমন বক্তব্য আসায় ভবিষ্যতে নতুন কোনো অঘটনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”
সংলাপে বক্তারা ঐক্যমত্য পোষণ করেন যে, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই ‘মব সংস্কৃতি’ বন্ধ করা সম্ভব নয়।
লামিয়া আক্তার