নেত্রকোনায় সরকারি জমি দখল ঘিরে লঙ্কাকাণ্ড

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের তীব্র বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে কলমাকান্দার লেঙ্গুরা বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আধাপাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায় একটি পক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা এতে বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট নায়েব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউএনও যখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন, তখন সেখানে উপস্থিত হন লেঙ্গুরা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। তিনি আদালতের কার্যক্রমে আপত্তি জানান এবং এক পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যানের বাধার মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

​এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “সরকারি একটি জায়গায় ঘর নির্মাণের সময় প্রথমে নায়েব এসে বাধা দেন। পরে ইউএনও সাহেব এসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আমার ভাইকে সাজা দিতে চাইলে আমি এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি। এ নিয়েই মূলত কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি আইন অমান্য করতে চাইনি, শুধু প্রক্রিয়াটি বুঝতে চেয়েছি।”

​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বিঘ্ন ঘটানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করণীয়, আইনিভাবে তা করা হবে।’

মহসিন মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি