ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: পর্যবেক্ষণে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করতে বাংলাদেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুই প্রভাবশালী সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এই দুই সংস্থার প্রতিনিধিরা ঢাকায় পৌঁছাবেন। তারা প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করে নির্বাচনের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সামগ্রিক ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সরেজমিন মূল্যায়ন করবেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর আইআরআই ও এনডিআই যৌথভাবে একটি প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে অংশ নিয়েছিল। সেই সফরে তারা নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করে। এর মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, তালিকা থেকে ২১ লাখ মৃত ভোটার অপসারণ এবং ৪৪ লাখ নতুন ভোটার সংযুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ এবং জাতীয় সনদে দলগুলোর স্বাক্ষর করার বিষয়টিকেও তারা স্বাগত জানায়।

প্রশংসার পাশাপাশি সংস্থা দুটি নির্বাচনী সহিংসতা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাগুলোর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিদ্যমান মতভেদ প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

আইআরআই-এর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বেশ কিছু কারিগরি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সংস্থাগুলো মনে করে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আইআরআই এরই মধ্যে অন্তত ১০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর আগেও বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচনে এই সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করেছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তারা একটি আনুষ্ঠানিক সুপারিশনামা ও মূল্যায়ন জমা দেবে। এতে ভোটের দিন কোনো অনিয়ম বা সহিংসতা হয়েছে কি না, তার বিস্তারিত চিত্র উঠে আসবে। তাদের এই পর্যবেক্ষণ দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করবে।

 

লামিয়া আক্তার