জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও সংবেদনশীল তথ্য বিক্রির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দেশের নাগরিকদের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছিল।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ আভিযানিক দল জানায়, প্রথমে গত ১৪ জানুয়ারি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মো. আলামিন (৩৯) নামে এক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ (৪১), গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মো. আলামিন তার আইডি ও পাসওয়ার্ড মো. হাবীবুল্লাহকে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য যাচাই ও বিক্রি করতেন। প্রতিটি তথ্যের বিনিময়ে নেওয়া হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। সিআইডির হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার তথ্য দেখা হয়েছিল, আর ৩০ দিনে এটি দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮। এর মাধ্যমে মো. হাবীবুল্লাহ প্রায় ১১ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফার ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করতেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন:
১. মো. হাবীবুল্লাহ (৪১), গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস, মুন্সীগঞ্জে সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর।
২. মো. আলামিন (৩৯), ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং), ঢাকা।
মামলার তদন্তের পাশাপাশি সিআইডি অবৈধ অর্থের উৎস, চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ ও রিমান্ডের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান।
মো. জাহিদুল ইসলাম/মামুন










