‘হাইপোথার্মিয়া’য় গাজায় শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে

ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতবিক্ষত গাজায় এবার হানা দিয়েছে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়। মঙ্গলবার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও দেয়াল ধসে তিন নারীসহ অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তীব্র ঠান্ডায় বা ‘হাইপোথার্মিয়া’য় আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ঠান্ডাজনিত কারণে এক বছরের এক শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। এর আগের রাতেও একই কারণে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানিয়েছেন, চলতি শীতে এখন পর্যন্ত হাইপোথার্মিয়ায় মোট ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ঝড়ে শত শত তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয় উড়ে গেছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় তাঁবু ও ত্রিপল পর্যাপ্ত পরিমাণে গাজায় ঢুকতে না পারায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে প্রায় ৯৫ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টির শিকার। যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই তীব্র শীত ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবার এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চললেও মানবিক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, আশ্রয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ গাজায় প্রবেশে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ বলেন, “অস্থায়ী আশ্রয় ও ওষুধের অভাবে মানুষ যে অমানবিক পরিস্থিতিতে আছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই তীব্র শীতল আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা গাজার দুর্গত মানুষের জন্য আরও বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছে।

-এম. এইচ. মামুন