ছোটপর্দা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজ সময়কে সঙ্গী করে নিজেকে বারবার ভেঙে গড়ে তুলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রুনা খান। মাতৃত্ব, শরীরের পরিবর্তন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির চাপ পেরিয়ে আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন নতুন আত্মবিশ্বাসে সচেতন, দৃঢ় ও প্রস্তুত। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই বদলে যাওয়ার গল্প নিয়ে মুঠোফোনে তার সঙ্গে কথা বলেছেনÑ আলোকিত স্বদেশের বিনোদন প্রতিবেদক
অভিনয় যাত্রার এই সময়টা কেমন যাচ্ছে?
এই মুহূর্তে আমি ভীষণ ব্যস্ত, আবার একই সঙ্গে ভীষণ তৃপ্ত। সম্প্রতি তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার কাজ শেষ করেছি মাসুদ পথিকের ‘বক’, কৌশিক শঙ্কর দাসের ‘দাফন’ এবং জাহিদ হোসেনের ‘লীলামোন্থন’। পাশাপাশি দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, বেশ কিছু নাটক এবং ওয়েব সিরিজও মুক্তির অপেক্ষায় আছে। কাজের দিক থেকে এটা আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়।
ওজন কমানোর যাত্রা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিষয়টা কীভাবে দেখেন?
এটা শুধু ওজন কমানোর গল্প নয়, এটা নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার যাত্রা। প্রায় ৪০ কেজি ওজন কমিয়েছি, কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হয়েছে আমার ভাবনায়। আমি বলি ‘৪০-এ এসে আমার নবজন্ম হয়েছে। এই বয়সে এসে নিজেকে আগের চেয়ে বেশি জীবন্ত, বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়।’
নতুন লুক ও ফটোশুট ঘিরে সমালোচনাও হয় আপনাকে নিয়ে?
সমালোচনা থাকবেই। কিন্তু নেতিবাচক মন্তব্য আমাকে দমাতে পারেনি। আমি বিশ্বাস করি, নিজেকে ভালো রাখা, ফিট থাকা কোনো অপরাধ নয়। বয়স বা মাতৃত্ব নারীর সক্ষমতার শেষ সীমা হতে পারে না।
‘দাফন’ ও ‘লীলামোন্থন’ দুটিই নারীকেন্দ্রিক গল্প। চরিত্রগুলো নিয়ে বলুন?
‘দাফন’ সিনেমায় আমি অভিনয় করেছি কুলসুম চরিত্রে। একজন স্বামী-পরিত্যক্ত নারীর প্রেম, বিয়ে ও সংগ্রামের গল্প। খুব বাস্তব, খুব কাছের গল্প। আর ‘লীলামোন্থন’-এ আমার চরিত্র ছখিনা একজন বন্ধ্যা নারী, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আকাক্সক্ষা ‘মা’ ডাক শোনা। গল্পের ভেতর উঠে এসেছে ভয়াবহ শিশু পাচার চক্রের বাস্তবতা। চরিত্র দুটোই ভীষণ চ্যালেঞ্জিং এবং আবেগী।
‘বক’ সিনেমাটি একটু আলাদা ধাঁচের?
হ্যাঁ, ‘বক’ কবি জীবনানন্দ দাসের ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতার ছায়ায় নির্মিত। এটি একটি প্রান্তিক পরিবারের গল্প- যাদের জীবন চলে বক শিকার করে। নদীভাঙন, দারিদ্র্য আর টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিনেমাটির গল্প। কাজটি আমার জন্য খুব আলাদা অভিজ্ঞতা।
নিজের কাজের বৈচিত্র্য নিয়ে কী বলবেন?
ভিন্ন বয়সের, ভিন্ন শ্রেণির, ভিন্ন মানসিকতার চরিত্রে আমাকে ভাবা হচ্ছেÑ এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এখন অনেক কাজেই কেন্দ্রীয় চরিত্র আমাকে ঘিরে লেখা হচ্ছে, এটা নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের।
নারীর বয়স ও ফিটনেস নিয়ে আপনার অবস্থান?
একসময় মনে করা হতো ২০, ২৫ বা ৩০ পেরোলেই নারীর ক্যারিয়ার শেষ। সন্তান হওয়ার পর শরীর বদলাবেÑ এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেকে ফিট রাখা, নিজের যত্ন নেওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না।
জীবন নিয়ে কোনো অতৃপ্তি আছে?
একদমই না। আমি ভীষণ কৃতজ্ঞচিত্ত এবং সুখী। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে যা পেয়েছি, তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমার পরিবার একটা শান্ত নদীর মতো। এত শান্তিময় দাম্পত্য জীবন যে হতে পারে, নিজে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।










