তার ব্যক্তিগত জীবন এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিছুদিন আগেও সঙ্গীতশিল্পী ও ভ্লগার দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে ধারণা ছিল, সংসার ও কাজ—দু’দিক সামলে তিনি সুখেই আছেন। তবে সেই চেনা ছন্দে ছেদ পড়ে দেবলীনার একটি ফেসবুক লাইভের পর। লাইভে এসে তিনি জানান, কাজের চাপ ও সংসারের অশান্তিতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়েই শ্বশুরবাড়িতে মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। ওই লাইভের পরই রাতে অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন দেবলীনা।
পরবর্তীতে জানা যায়, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করানো এবং চিকিৎসার কারণেই প্রাণে রক্ষা পান দেবলীনা। এখনও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বন্ধু সায়ক-এর একটি ভিডিওতে প্রথম মুখ খুলে দেবলীনা নিজেই স্বীকার করেন, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
এরপর দেবলীনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একাধিক ভিডিও শেয়ার করে তার মা ও দিদি, দেবলীনাদের দাম্পত্য জীবন ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, সামাজিকভাবে বিয়ে হলেও প্রবাহ ও দেবলীনাদের আইনি বিয়ে এখনও হয়নি, শ্বশুরবাড়ির গড়িমসির কারণেই। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, গত অগাস্ট মাসে অশান্তির জেরে দেবলীনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং স্বামীর থেকে আলাদা থাকতে বাধ্য করা হয়। এই অভিযোগ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক, মত-বিরোধ ও ট্রোলিং। দেবলীনাদের পরিবার বারবার ট্রোলিং বন্ধের আবেদন জানালেও পরিস্থিতি বিশেষ বদলায়নি।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার একটি দীর্ঘ লাইভ ভিডিওতে প্রথমবার বিস্তারিতভাবে নিজের অবস্থান জানান দেবলীনা। তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করছেন— সম্পর্কে অশান্তি থাকলে কেন তিনি বেরিয়ে আসেননি। দেবলীনাদের প্রেমের বিয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাহকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। লাইভে তিনি অগাস্ট মাসে শাশুড়ির সিদ্ধান্তে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথাও জানান।
শুধু পারিবারিক নয়, আর্থিক কারণেও শ্বশুরবাড়িতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে বলে দাবি দেবলীনার। বাবা-মাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করায় আপত্তি ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বিয়ের আগে এক দুর্ঘটনার সময় হাসপাতালে তাঁকে রেখেই প্রবাহ চলে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন দেবলীনা।
দেবলিনা জানান, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে এবং সবই ভিডিও রেকর্ড করা। আত্মহত্যার চেষ্টা করার পরেও স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির তরফে কোনও খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তবু দেবলীনা স্পষ্ট করেন, তিনি সম্পর্ক ভাঙতে চান না। হাসপাতালেও তিনি বারবার প্রবাহকেই খুঁজেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে দেবলীনা বলেন, তার কোনও আর্থিক দাবি নেই, তিনি শুধু স্বামীর একটি ফোন বা মেসেজের অপেক্ষায় আছেন।
এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রবাহ বা তার পরিবারের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিথী রানী মণ্ডল/










