ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ইরানের গণআন্দোলন এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ জনে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন ও আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের কারণে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নেমে আসেন। তবে আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পায় গত বৃহস্পতিবার, যখন দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভীর আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নামেন। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা রাজপথের দখল নিলে নিরাপত্তাবাহিনী সরাসরি গুলি চালায়, যাতে শত শত মানুষ হতাহত হন।

বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে ইরানে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিরাপত্তাবাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা’ সরকারি অবকাঠামোতে অগ্নিসংযোগ করেছে। তবে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের হতাহতের বিষয়ে সরকার এখনো নীরব।

ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সর্বশেষ গত রবিবার তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। যদিও এই হস্তক্ষেপের ধরণ বা কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।

ইরান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তেহরানের কর্মকর্তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে উসকানি দিয়ে এটিকে সহিংস দাঙ্গায় রূপ দিয়েছে এই দুই দেশ।

-এম. এইচ. মামুন