দেশজুড়ে শীতের দাপট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের আটটি জেলায় শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের কবলে আট জেলা: বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া—এই আট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, মাত্র ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উল্লেখ্য, টানা পাঁচ দিন ধরে এই জনপদেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে টানা আট দিন ধরে চলছে শৈত্যপ্রবাহ।
বিপর্যস্ত জনজীবন ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট: তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক ও কৃষি শ্রমিকরা। প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাজ না পেয়ে অনেক পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কুয়াশার সতর্কতা: শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে আসা শিশু ও বয়স্ক রোগীর ভিড় বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগেও আজ তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










