নাসিরনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধ শতাধিক ​

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কুন্ডা গ্রামে কোনাপাড়া এলাকায় নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলমধর এবং রৌসুন মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধ- শতাধিক লোক আহত হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুন্ডা ইউনিয়নের কুন্ডা গ্রামের কোনাপাড়া এলাকায়  প্রভাবশালী দুই পক্ষ—কলম ধর ও রসুন মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
আজ রবিবার ১১ জানুয়ারি সকালে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

​খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ও
বিপুল সংখ্যক দাঙ্গাকারীর সামনে পুলিশ হিমশিম খায় এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

​পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে সংঘর্ষকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
​বর্তমান অবস্থা আহতদের উদ্ধার
করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেৱা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য  ইয়াদুন বেগম (২৫) কে জেলা সদর হাসপাতালে  প্রেরণ করা হয়েছে।

কুন্ডা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন বলেন, একটা পুরনো বিবাদ নিরসনের উদ্দেশ্য আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনা চালিয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ কিছু সংখ্যক উশৃংখল লোক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ শাহিনুল ইসলাম বলেন,
এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খ,ম,জায়েদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া