ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জেরে ভেনেজুয়েলার তেলে আগ্রহ ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস খুঁজতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনসাপেক্ষে ভেনেজুয়েলা থেকে আবার অপরিশোধিত তেল কেনার চেষ্টা করছে ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটেই ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে ভারত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে দেশটির পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই হুমকির পর ভারত নতুন সরবরাহকারী খুঁজতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

রয়টার্স জানায়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সীমিত অনুমতি দিতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

একসময় ভেনেজুয়েলা ছিল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আগে দেশটি থেকে দৈনিক প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করত ভারত। তবে পরে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে বিক্রির অনুমতি দেয়, তবে তারা চুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। রিলায়েন্সের গুজরাটে অবস্থিত দুটি পরিশোধনাগারের দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল, যেখানে ভেনেজুয়েলার তুলনামূলক ভারী ও সস্তা তেল সহজেই প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রিলায়েন্স এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে এবং চলতি মাসে কোনো চালান নিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অনুমোদনের আওতায় ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে রিলায়েন্সকে একাধিক দফায় তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র বেশির ভাগ লাইসেন্স স্থগিত করে এবং ভেনেজুয়েলার তেল ক্রেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।

আফরিনা সুলতানা/