অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোর স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দশটি কাজের মধ্যে সরকার যদি চারটি ভালো কাজ করে, তবে তার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। বাকি ছয়টি কাজের সমালোচনা করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু একেবারে কিছুই হয়নি বলে প্রচার করা সৎ সমালোচনার পর্যায়ে পড়ে না।”
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কারের ফিরিস্তি তুলে ধরলেন আইন উপদেষ্টা
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত করেছি। এটি কি সংস্কার নয়? আমরা গুম কমিশন গঠন করেছি, যা অসাধারণ কাজ করেছে এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হয়রানিমূলক ২০ হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, অর্থনৈতিক খাতে স্বস্তি ফিরেছে, রিজার্ভ বেড়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এগুলো কি কোনো সাফল্য নয়? অথচ সমালোচনার সময় এসব বিষয় কারও চোখে পড়ে না।”
সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
আইন উপদেষ্টা বলেন, “গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি হয়েছি, এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। গত ১৫ বছর আমাকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আর এখন রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হচ্ছে।” তিনি তার বিরুদ্ধে আমেরিকায় বাড়ি থাকা এবং পরিবার পাঠিয়ে দেওয়ার মতো অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যারা এসব মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি।”
জামিন নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি
জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় আটক ব্যক্তি বা আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এর ৯০ শতাংশই দিচ্ছে হাইকোর্ট। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ বিচারকের। কোনো বিচারক যদি ভুল বা অন্যায়ভাবে জামিন দেন, তবে তার দায় সেই বিচারকের, আমাদের না। অথচ জামিন হলেই আইন উপদেষ্টাকে দোষারোপ করা হয়, যার পেছনে বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে।”
আত্মসমালোচনার আহ্বান
আসিফ নজরুল বলেন, “শুধু আইন দিয়ে ম্যাজিকের মতো সবকিছু পরিবর্তন করা যায় না। ইংল্যান্ডে লিখিত সংবিধান নেই, তবু সেখানে সুশাসন আছে। কাগজ বা আইন দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না। আমাদের সবার উচিত অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের আত্মসমালোচনা করা।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি একে অপরের সীমাবদ্ধতা বোঝার চেষ্টা করি এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাই, তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশকে ইনশাল্লাহ অনেক ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”
সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।










