
ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলেও বিক্ষোভের আঁচ কমছে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানি নেতাদের প্রতি আমার স্পষ্ট বার্তা—বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাবেন না। আপনারা যদি গুলি চালান, তবে আমরাও (যুক্তরাষ্ট্র) পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করব।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক জনপদে পরিণত হয়েছে এবং তিনি আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে এখনই কোনো প্রবাসী বিরোধী নেতাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চান না বলে জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদান এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কয়েক হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভের ভিডিও যাতে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। ইরান এখন বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও ৪০ শতাংশ ছাড়ানো মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও, বর্তমানে তা সরাসরি ‘সরকার পতন’ আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ‘খামেনির মৃত্যু চাই’ এবং রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বেশ কিছু ব্যাংক ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ছবি প্রকাশ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই আন্দোলনের জন্য ‘বিদেশি শত্রু’দের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নাশকতায় জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
-এম. এইচ. মামুন









