ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর আইনি লড়াইয়ে। আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ একে অপরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাল্টাপাল্টি আবেদন জমা দিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে স্থাপিত আপিল বুথে এই আবেদনগুলো জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উভয় পক্ষ তাদের অভিযোগ দাখিল করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রথমে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিলের জন্য আবেদন জমা দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
ইসি সূত্র জানায়, ঋণখেলাপি, হলফনামায় তথ্যের অসংগতি বা অন্য কোনো আইনি জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো শুনানির দিন প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই আপিলগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন গড়ে ৭০টি করে আপিলের নিষ্পত্তি করবে কমিশন। কুমিল্লা-৪ আসনের এই বহুল আলোচিত পাল্টাপাল্টি আবেদনের শুনানি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসি’র সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “উভয় পক্ষই তাদের আপিল জমা দিয়েছেন। এখন কমিশনের সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
উল্লেখ্য, ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতার জটে থাকা কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের এই লড়াই ভোটের আগেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুধু কুমিল্লা নয়, দেশের আরও বেশ কিছু আসনেও বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এমন আপিল ও বাতিলের আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের আগেই স্পষ্ট হবে দেবীদ্বারের এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকেন।
-এম. এইচ. মামুন










