জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৮৪ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন টন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনা: প্রেস সচিব জানান, এই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার শর্তে অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন টন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মূলত ‘তৃতীয় ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন’ (এনডিসি-৩) অনুযায়ী এই রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ২০২ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন টন। নিঃসরণের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৪১৮ দশমিক ৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
খাতওয়ারি লক্ষ্যমাত্রা: এনডিসি-৩-এ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জ্বালানি (এনার্জি) খাতকে। বিভিন্ন খাতে নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রাগুলো হলো:
-
জ্বালানি খাত: ৬৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন টন
-
কৃষি খাত: ৮ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন টন
-
বন ও ভূমি ব্যবহার: ৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টন
-
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন টন
-
শিল্প খাত: শূন্য দশমিক ৬৪ মিলিয়ন টন










